
ডেস্ক :
মাত্র ১০ দিন পর শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে শুধু দলসংখ্যাই বাড়ছে না, বদল আসছে ফুটবলের নিয়মেও। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ হবে নতুন কয়েকটি আইন প্রয়োগের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ।ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড, সংক্ষেপে ইফাব, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য বৈষম্যমূলক আচরণ ঠেকানো, সময় নষ্ট কমানো, ম্যাচের গতি বাড়ানো এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা। এশিয়া পোস্টের পাঠকদের জন্য বিশ্বকাপের নতুন নিয়মগুলো দেওয়া হলো:মুখ ঢেকে কথা বললেই বিপদ:নতুন নিয়মে মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ বা মুখোমুখি পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে পারেন।এই নিয়ম আনার পেছনে সাম্প্রতিক একটি বিতর্ক বড় ভূমিকা রেখেছে। বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নির বিরুদ্ধে রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে মুখ ঢেকে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে উয়েফা তাকে ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করা হয়।তবে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় মুখ ঢেকে কথা বললেই শাস্তি হবে না। যেমন ক্লাব সতীর্থরা জাতীয় দলে প্রতিপক্ষ হয়ে খেললেও বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের সময় মুখ ঢাকলে তা অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না।প্রতিবাদে মাঠ ছাড়লে লাল কার্ড:রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে গেলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, কোনো টিম অফিশিয়াল যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে প্ররোচিত করেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এমনকি কোনো দল যদি নিজেদের আচরণের কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে সেই দল ম্যাচ হারবে। বড় ম্যাচে দলীয় প্রতিবাদ ও মাঠ ছাড়ার প্রবণতা ঠেকাতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।থ্রো-ইন ও গোল-কিকে পাঁচ সেকেন্ডের হিসাব:সময় নষ্ট ঠেকাতে থ্রো-ইন ও গোল-কিকে আসছে দৃশ্যমান পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন। রেফারি হাত তুলে এই কাউন্টডাউন শুরু করবেন।প্রতিটি অর্ধে পানির বিরতি:২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধেই তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক থাকবে। সাধারণত অর্ধের মাঝামাঝি, অর্থাৎ ২২ মিনিটের দিকে এই বিরতি দেওয়া হবে।তবে রেফারির হাতে কিছুটা নমনীয়তা থাকবে। যেমন ২০ মিনিটের সময় কোনো খেলোয়াড় চোট পেয়ে চিকিৎসা নিলে তখনই পানির বিরতি ঘোষণা করা যেতে পারে।গোলরক্ষকের চোটে ‘টাইমআউট’ নয়:গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসা নিলে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করতে পারবেন না। অর্থাৎ গোলরক্ষকের চোটকে ব্যবহার করে দলীয় ‘টাইমআউট’ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হচ্ছে।
